পাশের খালি ডেস্ক এর দিকে চোখ পড়তে মনে পড়ে গেল কাল অমলেশ বাবুর বড় ছেলে এসে ওনাকে অফিস থেকে ছুটি করিয়ে নিয়ে গেছে। ওনার বাড়ি তে কি যেন উৎসব আছে ।যাবার সময় অমলেশ তাকে বলেছিল বুঝলে ভায়া সন্তান সুখ তো বুঝলে না, থাকলে বুঝতে কি পরম আনন্দের জিনিস যার আছে সেই বোঝে। সাহেব তখন কিছু বলতে পারেনি কিন্তু খচখচানি টা তখন থেকে শুরু হয়েছে। লান্চ এ দুটো রুটি আসুর তরকারি থেকে সাহেব হাত ধুতে এল। বয়স বারলেও সুগার টা এখনও তার শরীর এ দাত বসাতে পারে নি। তবে বিদিতার কড়া নিয়মে বাইরে খাওয়া তাই অফিস থেকে লান্চ সে করে না ।হাত ধুয়ে বেরোতে গিয়ে সামনে জটলা দেখে থমকে গেল সে। আজ সকালে অমলেশ সুইসাইড করেছে।
খবর টা শুনে সাহেব চমকে উঠল। এত সহজ মানুষ টা সুইসাইড করল কেন? মাথাটা ভো ভো করছে। আজ রাস্তা টা একটু বেশী খালি মনে হচ্ছে। ছেলে রা মা বাবাকে আলাদা আলাদা ভাবে নিজের কাছে রাখতে চেয়েছিল, বুড়ো বয়সে আর সেটা মানতে পারেনি অমলেশ বাবু আর তাই ......না! এই বয়সে বিদিতা কে ছেড়ে থাকা সম্ভব না।ভালোই হয়েছে তারা নিঃসন্তান। আজ অদ্ভুত ভাবে সাহেব লক্ষ করল মনের খচখচানি টা আর নেই। পাশের ফুলে দোকান থেকে একছরা বেলফুলের মালা কিনে নিল সে বিদিতার জন্য, সে খুব খুশি হবে। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখল খুব মেঘ করেছে, ঝোরো হাওয়া এসে গায়ে লাগল। তাড়া তাড়ি পা চালাল সে।
Comments
Post a Comment